পোস্টগুলি

বাদশাহ যখন চোর !

ev`kvn hLb †Pvi! Zmwjgv AvKZvi   ev`kvn myjZvb gvngy` MRbex GKw`b iv‡Z ev`kvnx †cvkvK †Q‡o mvavib †cvkvK cwiavb K‡i evB‡i ‡ei nb| nuvU‡Z nuvU‡Z GK ¯’v‡b G‡m wKQz gvby‡li RUjv †`L‡Z cvb| wZwb eyS‡Z cvi‡jb Giv nj †Pvi| wZwb hLb Zv‡`i Kv‡Q Avm‡jb myjZvb‡K Zviv wR‡Ám Kij, Zzwg †K ? †Zvgvi cwiPq Kx ? wZwb ej‡jb AvwgI †Zvgv‡`i gZ GKRb| Zviv fvej G e¨w³I Avgv‡`i gZ †Pvi| AZtci †Pv‡iiv

নেক কাজ ও ফলের বাগান

এক বাদশার একটি বাগান ছিল। বাগানটি ছিল অনেক বড় এবং বিভিন্ন স্তর বিশিষ্ট। বাদশাহ একজন লোককে ডাকলেন। তার হাতে একটি ঝুড়ি দিয়ে বললেন, আমার এই বাগানে যাও এবং ঝুড়ি বোঝাই করে নানা রকম ফলমুল নিয়ে আস। তুমি যদি ঝুঁড়ি ভরে ফল আনতে পার আমি তোমাকে পুরস্কৃত করব। কিন্তু শর্ত হল, বাগানের যে অংশ তুমি পার হবে সেখানে তুমি আর যেতে পারবে না। লোকটি মনে করলো এটা তো কোন কঠিন কাজ নয়। সে এক দরজা দিয়ে বাগানে প্রবেশ করল। দেখল, গাছে গাছে ফল পেকে আছে। নানা জাতের সুন্দর সুন্দর ফল। কিন্তু এগুলো তার পছন্দ হল না। সে বাগানের সামনের অংশে গেল। এখানকার ফলগুলো তার কিছুটা পছন্দ হল। কিন্তু সে ভাবল আচ্ছা থাক সামনের অংশে গিয়ে দেখি সেখানে হয়ত আরো উন্নত ফল পাব, সেখান থেকেই ফল নিয়ে ঝুঁড়ি ভরব। সে সামনে এসে পরের অংশে এসে অনেক উন্নত মানের ফল পেল। এখানে এ সে তার মনে হল এখান থেকে কিছু ফল ছিড়ে নেই। কিন্তু পরক্ষণে ভাবতে লাগলো যে সবচেয়ে ভাল ফলই ঝুড়িতে নিবে। তাই সে সামনে এগিয়ে বাগানের সর্বশেষ অংশে প্রবেশ করল। সে এখানে এসে দেখল ফলের কোন চিহ্ন ই নেই। অতএব সে আফসোস করতে লাগল আর বলতে লাগল, হায় আমি যদি বাগানে ঢুকেই ফল সংগ্রহ ...

আংটি রহস্য

আংটি মা হ মু দ হা সা ন আ বা বি ল অন্য দিনের তুলনায় আজকে একটু বেশি শীত পড়েছে। রাত এগারোটা নাগাদ পড়ার টেবিলেই বসে ছিলাম। শেষ পর্যনত্দ প্রচন্ড শীতের কাছে হার মানতে হলো। হাত-পা গুলো বরফের মত জমে আসছে। চোখ জোড়াও বুঝি ক্লানত্দ হয়ে পড়েছে। তাড়াহুড়ো করে লেপের ভিতরে ঢুকে পড়লাম। যেন ব্যাঙের মত শীতনিদ্রার প্রস্তুতি। তন্দ্রাচ্ছন্ন চোখে ঘুম আসতে বেশি সময় লাগল না। এর মধ্যেই কেউ একজন আমাকে ডাকতে শুরু করলো। ডাকটা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে আসছে। হ্যাঁ , স্পষ্ট বুঝতে পারছি এটা একটা মেয়ে মানুষের কন্ঠ।-ওঠো মাইকেল , ওঠো…। আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারছিনা কি করবো। মেয়েটার কণ্ঠটা খুব মিষ্টি।-ওঠো মাইক , আমি উইলিয়াম শেরী।-উইলিয়াম শেরী ? কে উইলিয়াম শেরী ? আমি মেয়েটাকে দেখার জন্য অনেক কষ্ট করে চোখ খুললাম। সামনে দাড়িয়ে আছে মেয়েটা , ধবধবে সাদা একটা

দোজখের ছোট ইন্ধন

হযরত বাহলুল (রাঃ) বণর্না করেন, বসরার পথে আমি কয়েকজন যুবকের সাক্ষাৎ পেলাম যারা আখরোট এবং বাদাম নিয়ে খেলা করছিল । সামান্য দূরে এক যুবককে দেখতে পেলাম । সে তাদের খেলা দেখছিল আর কাঁদছিল । আমি ভাবলাম , এই ছেলে হয়তো ঐ ছেলেদের কাছে আখরোট এবং বাদাম দেখে কাঁদছে । আমি তাকে বললাম, হে ছেলে কাঁদছ কেন ? আমি তোমাকে বাদাম ও আখরোট কিনে দিব । তুমি তা খেতে পারবে । আমার কথা শুনে ছেলেটি মাথা তুলে আমার দিকে তাকাল এবং বলল, হে নির্বোধ , আমি খেলাধুলার জন্য সৃষ্টি হইনি ? আমি বললাম , হে সাহেবজাদা, তাহলে কি জন্য সৃষ্টি হয়েছ ? সে বলল , আল্লাহর ইবাদতের জন্য । আমি বললাম এটা তুমি কোথা হতে জানতে পারলে ? আল্লাহ্ তোমার জীবনে বরকত দান করুন । সে বলল, আল্লাহ্ তাআলা বলেছেন : অর্থ : তোমরা কি ধারণা করেছ যে , আমি তোমাদেরকে অযথা সৃষ্টি করেছি , আর তোমরা আমার নিকট প্রত্যার্বতন করবে না । ( সূরা মুমিনূন : ১১৫) আমি বললাম , হে সাহেবজাদা ! তোমাকে তো বুদ্ধিমান মনে হয় । আমাকে কিছু নসিহত কর । সে বলল, দুনিয়া খুবই ক্ষণস্থায়ী । দুনিয়া চিরকাল কারো জন্য থাকবে না । মানুষও দুনিয়ায় মরণহীন থাকবে ...

তিনটি প্রশ্ন - লিও টলস্টয়

এক রাজার কাছে হঠাৎ মনে হল যে তিনি যদি কোন কাজ করবার একদম উপযুক্ত সময়টি জানতে পারতো, ঠিক কোন ধরণের ব্যক্তির কোন কথা শুনতে হবে তা যদি আগের থেকেই জানতে পারতো বা কোন ধরণের লোক এড়িয়ে চলতে হবে তা আগের থেকেই বুঝতে পারতো এবং সবকিছুর উপরে, তিনি যদি আগের থেকেই জানতো কখন কোন কাজটি করা সবচাইতে প্রয়োজন; তাহলে তাকে কখনই কোন কাজে ব্যর্থ হতে হতো না যার দায়ভার তাকে ভবিষ্যতে নিতে হতো। তার মাথায় এই চিন্তা আসবার পর তিনি তার সমগ্র রাজ্যে প্রচার করবার ব্যবস্থা করলেন যে যদি কোন ব্যাক্তি কোন কাজ শুরু করবার সবচাইতে সঠিক সময়, ঠিক কোন ধরণের ব্যক্তির বা ব্যক্তিদের কথা শুনতে হবে এবং বিভিন্ন কাজের সুযোগের মধ্যে কোনটির গুরুত্ব সবচাইতে বেশী, এই তিনটি বিষয়ে সঠিক সিধান্ত গ্রহণ রাজাকে শিখাতে পারে তাহলে তাকে রাজামশাই বিশাল আকারের পুরস্কার প্রদান করবেন। রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে জ্ঞানীগুণী-বুদ্ধিজীবীরা আসতে লাগলো রাজার কাছে। কিন্তু তারা প্রত্যেকে রাজার প্রশ্নের ভিন্ন ভিন্ন উত্তর দিলো। প্রথম প্রশ্নের উত্তরে কেউ বললেন যে কোন কাজ সঠিক সময়ে শুরু করবার জন্য একজনকে অনেক আগের থেকে; এক সপ্তাহ, এক মাস এমনকি প্রয...

আশ্চর্য কৌশল

বাদশা সব মন্ত্রীকে বাদ দিয়ে বীরবলকেই বেশি ভালবাসতেন। মন্ত্রীরা অনেকেই বীরবলের প্রতি ঈর্ষান্তিব, বাদশা এ কথা জানতেন। বীরবলকে অপদস্থ করার অনেক চেষ্টা করেও তাঁরা তা পারতেন না, এসব জেনেও বাদশা চুপ করে থাকতেন। একদিন হঠাৎ বীরবলের অনুপস্থিতিতে একদল মন্ত্রী এসে বাদশাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে বললেন ‘হুজুর আমরা এমন কী অপরাধ করেছি যে জাঁহাপনা, আপনার সেবা করবার কোনও সুযোগ পাই না। যা কিছু জ্ঞানবুদ্ধির কাজ, বিচারের কাজ, সেবার কাজ, সবই আপনি বীরবলকে দেন। দয়া করে আমাদের ওপরেও কিছু ভাল কাজের দায়িত্ব দিন। দেখুন না বীরবলের চেয়ে আমরা ভাল পারি কি না? বাদশা বললেন, ‘তোমাদের কথাটা নেহাত মিথ্যে নয়। সত্যিই বীরবলকে যত বিশ্বাস করি বা ভালবাসি, তোমাদেরকে তা করি না। কারণ বীরবলের অসাধারণ গুণ, সততা, ধৈর্যবিচক্ষণতা ও সাধুতা যেন আমাকেও দিন দিন ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তাকে একদণ্ডও না হলে আমার একদম চলে না, এটা তোমরা মিথ্যা বলোনি। কাজ অবশ্য তোমাদের আমি দিই না আজকাল, কারণ জানি তোমরা বীরবলের মতো পারবে না বলে। বীরবলকে হিংসা কোরো না, সে কিন্তু সত্যিই ভাল।’ ‘ মন্ত্রীরা সব একসঙ্গে মিলে ডুকরে কেঁদে উঠলেন। বললেন, ‘হুজুর, কী আমাদের অপরাধ?...

কেউ ছোট নয়

সম্রাট একদিন বেশ হাসিখুশি মুখে ছিলেন। সেই সুযোগে বীরবল বললেন, সম্রাট, আপনার কাছে একটি ভিক্ষে চাই?’ সম্রাট বললেন, ‘বেশ তো, বলো? ‘ যদি আমি কোনওদিন দোষ করি, আমার মনোনীত জুরিরা যেন আমার বিচার করেন। বাদশা বললেন, ‘বেশ ভাল কথা। তাই হবে।’ বেশ কিছুদিন পরে ইচ্ছা করেই বীরবল একটি ঘোরতর অন্যায় কার্য করে বসলেন। সম্রাট স্থির করলেন বীরবলকে শাস্তি দিতেই হবে। এমন উপায় নেই। বীরবল বেশ বুঝতে পারলেন, যদি ঠিকমতো শাস্তি হয় তবে অন্তত দশ-বিশ হাজার টাকা তার অর্থদণ্ড হতে বাধ্য। কিন্তু সেই সময় সম্রাটকে তিনি পূর্বপ্রতিজ্ঞা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বললেন, ‘হুজুর, আমার জুরিদের আমিই স্থির করব বলে যে ভিক্ষা চেয়েছিলাম, এবং আপনি ভিক্ষা দেবেন বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন, অতএব আপনার কথা যদি এখন রাখেন তবে আমার পক্ষে ভাল হয়। সম্রাট বললেন, ‘তাই হোক, পাঁচজন বিচারক স্থির করে দাও, তাদের বিচার যাই হোক না কেন তোমাকে কথা দিলাম, আমি মেনে নেব।’ ‘তাহলে গ্রাম থেকে পাঁচজন দরিদ্র লোককে আনতে বলুন, তারা এসে আমার বিচার করুক। তারা যা বিচার করে দেবে তা আমি মাথা পেতে নেব।” ‘মানে? সম্ভ্রান্ত বিচারক তুমি চাও না? ‘হুজুর। দরিদ্ররাও তো মানুষ, সম্ভ...

একগুয়ে শিশু

             একগুঁয়ে শিশু একদিন রাজসভায় বীরবল ঠিক সময়ে এসে পৌছতে পারেননি। সেদিনের রাজসভায় জরুরি পরামর্শ ছিল। বীরবল ছাড়া সেই পরামর্শ আর কারও পক্ষে সমাধান করার সাধ্য ছিল না। সেজন্য এখনই বীরবলকে দরকার ছিল বাদশার। তিনি দূত পাঠালেন। দূত এসে দাঁড়াল বীরবলের দরজায়। বীরবল বললেন, ‘বলো গে যাচ্ছি।’ এদিকে ৩০ মিনিট অপেক্ষার পর বাদশা আবার দূত পাঠালেন। পুনরায় সেই দূত ফিরে এল বীরবলের কাছ থেকে একই উত্তর নিয়ে। আবার ৩০ মিনিট অপেক্ষা। তৃতীয়বার তার লোক গেল, এবং ফিরে এল ওই একই উত্তর নিয়ে। আবার লোক গেল, সেই একই উত্তর। এবার বাদশা ক্রুদ্ধ হলেন। আধঘণ্টা পরে এবারও যখন বীরবল এসে পৌছলেন না, তিনি হুকুম করলেন,“ফৌজ গিয়ে বীরবলকে ধরে আনুক, দরকার হলে বেঁধে আনুক, ওর কোনও ওজর আপত্তি না শুনে।’ ফৌজ গিয়ে দাঁড়াল বীরবলের দরজায়। এবার না গেলে সর্বনাশ! বীরবল তাড়াতাড়ি পোশাক-পরিচ্ছদ চড়িয়ে সোজা বাদশার কাছে এসে হাজির। লম্বা সেলাম ঠুকে দাঁড়ালেন, কিন্তু তিনি আজ আর তার সেলাম গ্রহণ করলেন না। ধমক দিলেন,‘বারবার আমার লোককে ফিরিয়ে দিলে কেন? তোমার এই ধরনের দেরি করা বা আমাকে অপমান করার ...

টিনের সেপাইর গল্প

        টিনের সেপাইয়েরকথা এক সময় পঁচিশটা টিনের সেপাই ছিল। তারা সবাই ভাইভাই, কারণ সবাই একটা পুরনো টিনের হাত গলিয়ে তৈরি। সবার হাতেবন্দুক, সবাই তক্তার মতো খাঁড়া দাড়িয়ে, সকলেরলাল আর নীল সৈনিকের পোশাক, সবাই দেখতে ভারি মজাদার। পৃথিবীতেজন্ম নেবার পর, যেই ওদের বাক্সের ঢাকনি খোলা হল, অমনি প্রথমযে কথা ওদের কানে গেল, তা হল, ‘টিনেরসেপাই ! একটি ছোটো ছেলেআনন্দে হাততালি দিয়ে ঐ কথা বলল। সেপাইগুলোকে সেজন্মদিনে উপহার পেয়েছিল। তার পর সে টেবিলের উপরেতাদের সাজিয়ে রাখল। সেপাইদের মধ্যে একচুল তফাত নেই। শুধুএকটা অন্যদের চাইতেএকটু অন্যরকম, কারণ তার মোটে একটা ঠ্যাং। ওকেই কিনা সবার শেষেতৈরি করা হয়েছিল, টিনে কুলোয় নি বলে। সেযাই হোক, অন্যরা দুঠ্যাঙে যেমন মজবুত হয়ে দাঁড়িয়েথাকত ওর এক ঠ্যাঙেও ওতেমনি মজবুত হয়ে দাঁড়াত। আমার মনে হয় ওরইজীবনের নানান ঘটনা তোমাদের শোনাবার যোগ্য । যেটেবিলে টিনের সেপাইরা সাজানো ছিল, তাতেআরো কয়েকটা খেলনাও ছিল। তার মধ্যেসবচাইতে সুন্দর হল পীচ- বোর্ডের তৈরি চমৎকার একটা দুর্গ। দুর্গের ক্ষুদে-ক্ষুদেজানলা দিয়ে ঘরের ভিতরেদেখা যেত। দুর্গের সামনে, একটা ছোটো ...

রুপকথার গল্প : সত্যিকার রাজকন্যা

          সত্যিকার রাজকন্যা             হ্যান্স অ্যান্ডারসন এক রাজপুত্র ছিলেন। তার রাজকন্যাবিয়ে করার বড়ো শখ। তাই বলেযে-সেরাজকন্যা হলেচলবে না, সত্যিকার রাজকন্যা হওয়া চাই। সেইরকম পাত্রীর খোঁজে গোটা পৃথিবী ঢ়ুঁড়ে ফেলা হল, কিন্তুসব জায়গায় একটা না একটা খুত বেরিয়েপড়ে। রাজকন্যা অনেক দেখা হল, কিন্তু তারা যে সত্যিকার রাজকন্যা, তাই-বা কি করেবলা যায় ?রাজপুত্রের ধারণা হয়ে গেল যে, সব পাত্রীরই একটানা-একটা কিছুযেমনটি হওয়া উচিত, তেমনটি নয়। শেষপর্যন্ত তিনি নিজের প্রাসাদে ফিরেএলেন। মন বড়ো খারাপ। এত সাধ, সত্যিকার রাজকন্যা বিয়েকরেন, তা সে হল কই ? একদিন সন্ধেবেলায় ভীষণ ঝড় উঠল। বিদ্যুৎ চমকাতে লাগল, বাজ পড়ল, আকাশ থেকেপ্রবল ধারায়বৃষ্টি নামল, চারদিক ঘুটফুটে অন্ধকার হয়েএল, তারই মধ্যেহঠাৎ শোনা গেল সদর দরজায় কে যেন জোরে জোরেধাক্কা দিচ্ছে । রাজপুত্রের বাবা, বুড়ো-রাজা, নিজে গিয়েদোর খুললেন। বাইরে একজন রাজকন্যা দাঁড়িয়ে। ঝড়বৃষ্টির মাঝেপড়ে তার যা অবস্থা ! চুল থেকেঝরনা বইছে, জাম-কাপড় ভিজে গায়ে লেপটে রয়েছে। সে বলল সেএকজন সত্যিকার রাজকন...

রুপকথার গল্প : রাজা ও রাজকন্যা

এক দেশে ছিল এক রাজা।  তিনি অনেক ক্ষমতাধর  হয়েও সোমগিরির রাজা হিসেবে ছিলেন ভীষণ দয়ালু। দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি তার ছিল অসীম ভালবাসা। প্রজাদের সুখ-দুঃখ আনন্দ-বেদনা নিয়েই তিনি সারাক্ষণ ভাবতেন। ফলে সেই রাজ্যের মানুষেরা ছিল খুব সুখি। কোনো কিছুর অভাব ছিল না তাদের। তারাও তাদের রাজাকে প্রাণের চেয়ে বেশি ভালোবাসতেন। এত কিছু হলে কী হবে! এত শক্তি যে রাজার, এত সম্পদে পরিপূর্ণ যারভান্ডার, এত বিশাল আরমহৎ যারমন, সেই মনের গভীর কোণে ছিল এক নিদারুণ বেদনা। দারুণ অসুখি ছিলেন সেই রাজা। সব থেকেও তার যেন কিছুই নেই। তিনি যেন ভীষণ একা। সারাদিন আনমনা হয়ে থাকেন। কারণ রাজার একমাত্র সন্তান, রাজ্যের রাজকন্যা খুব অসুস্থ। সে দাঁড়াতেপারে না, বসতে পারে না। কথাও বলতেপারে না। দিন রাত কেবলই তাকে বিছানায় শুয়ে থাকতেহয়। রাজকন্যার বয়স পনের হলেও, তাকে দেখতে এখনও শিশুটির মতোইলাগে। ভীষণ কষ্টতার। সবার মতো সে চলাফেরা করতে পারেনা, মনের কথা বলার কোনো ভাষাও নেই তার। ক্ষুধা পেলেও কাউকে জানাতে পারেনা। জীবিত থেকেও সেযেন মৃত। সবার মাঝে থেকেও সে যেন সবার থেকে দূরে। দিন যায়, মাস যায়। ঘুরতে ঘুরতে কয়েকটা বছরও চলে যায...

শিক্ষামূলক গল্প : সওদাগরের আমানত

         সওদাগরের আমানত সবুজদিয়া গ্রামে এক সওদাগর বাস করতো। সে বাণিজ্য করতে দূর দেশে যাবে। তার কাছে কিছু সোনার মোহর ছিলো। সেই গ্রামেতার আপন বলতে কেউ নেই। যারা ছিলো তাদের ওপর সওদাগরের কোন আস্থা ছিলো না। মোহরগুলো কোথায় রেখে যাবে এই নিয়ে মহা দুশ্চিন্তায় পড়ে গেল। পরে খুব চিন্তাভাবনা করে বের করলো। পাশের বাড়িতে বুড়িমা আছে। খুবই ভালো মানুষ। ঈমানদার। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে। রোজা পালন করে। তার কাছে রাখা যেতে পারে। সে আমানতের কোন দিনও খেয়ানত করবে না। পরদিন সে বুড়িমার কাছেগেল এবং বলল ‘বুড়িমা এই পুঁটলিটা একটু যত্ন করে গুপ্তস্থানে লুকিয়ে রাখবে। আমি দূর দেশে সওদা করতে যাচ্ছি। ফিরতে ছয় মাস সময় লেগে যাবে। ফিরে এসে তোমার কাছ থেকেআমার আমানতের জিনিস আমি ফেরত নিবো।’ বুড়ি মা বললো : ‘ঠিক আছে বাবা, আমি বেঁচে থাকতে তোমার এই জিনিস কাউকে ধরতে দেবো না।’ সওদাগর এবার নিশ্চিন্তে বাণিজ্য করতে চলেযায়। সওদাগরযাবার কিছুদিন পরই বুড়িমা অসুস্থ হয়েপড়ে। দিন যায় রাতযায় বুড়িমার অসুখটা বেড়েই চলে। বুড়িমার খুবই কষ্ট। দিন দিন কষ্টআরো বেড়ে যায়। বুড়িমা সওদাগরের এইআমানতের জিনিস...

রুপকথার গল্প : বুদ্ধিমান মন্ত্রী

              বুদ্ধিমান মন্ত্রী এই গল্পটি ইরান দেশের। সেখানকার এক বাদশাহ, নাম তার ফরিদ। বাদশাহ’র ছিল অতি বিচক্ষণ এক মন্ত্রী। খুবই জ্ঞানী লোক। তার দুরদর্শিতা ছিল অসাধারন। বাদশাহ তাকেভালোও বাসতেন খুব। রাজ্যের যে কোন বিপদ-আপদে এই মন্ত্রী সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন। একদিন এক ব্যক্তি বাদশাহ’র কাছেগিয়ে মন্ত্রীরবিরুদ্ধে অভিযোগ করল। –হুজুর, আপনার প্রিয় মন্ত্রী ভিতরেভিতরে আপনার শত্রু। তিনি বহুলোককে রাজকোষ থেকেটাকা ধার দিয়েছেন। শর্ত  একটাই–আপনার মৃত্যুর পরেএই টাকা শোধ দিতেহবে। তিনি চান না যে আপনি দীর্ঘজীবী হোন। আপনারমৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে তার হাতে অনেক অনেক টাকা পয়সা আসবে। কী ভয়ংকর চক্রান্ত–বাদশাহ আপনি একবার ভেবে দেখুন। বাদশাহএই কথা শুনেমন্ত্রীর প্রতি অত্যন্ত বিরক্তও ক্ষুদ্ধহলেন। সময়মতো একদিন তাকে বললেন– মন্ত্রী, একী কথা শুনতে পাচ্ছি? লোকজনদের টাকা ধারদিচ্ছেন অন্যরকম শর্তে, এর উদ্দেশ্য কী? আমি বেঁচে থাকতে আপনি এই টাকা ফেরত নেবেন না, স্পষ্ট বোঝ যাচ্ছে আমার মৃত্যুতেই আপনার যথেষ্টলাভ। আপনাকে আমার আন্তরিক বন্ধুবলেই জানি। কিন্তুআপনার এ কেমন শত্রুর মতো ...

রূপকথার গল্প : অত্যাচারী বাদশাহ

              অত্যাচারী বাদশাহ এক দেশে এক অত্যাচারী বাদশাহ ছিলেন। বিভিন্ন রকমের অত্যাচার তিনি করতেন। লোকজনের ঘোড়া-গাধা জোর করে কেড়ে নিতেন। বাদশাহ একদিন সৈন্যসামন্ত সঙ্গে নিয়ে শিকার করতে গেলেন। দলবল নিয়ে শিকার করতে আসা রাজাদের একটা অভিজাত্য এবং এটা একটা বড় উৎসব। রাজা একা একা একটা শিকারের পেছনে ধাওয়া করতে করতে অনেকদূর চলে গেলেন। তাঁর অন্য কোনদিকে খেয়াল নেই।  তখন সন্ধা। রাজা টের পেলেন বনের মাথায় ঘন আঁধার নামছে। সঙ্গেকোনো অনুচর নেই। সম্পূর্ণ অপরিচিত স্থান। তিনি কাছাকাছি এক গ্রামেগিয়ে আশ্রয় নিলেন। এক ধনবান ব্যক্তির বাড়িতে রাত্রিযাপন করবেন বলে ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। কিছুক্ষণ পর তিনি দেখলেন, ধনী ব্যক্তিটি তার গাধাকে বেদম প্রহার করছে। গাধা কাতর হয়ে চিৎকার করছে। লোকটি নির্বিকার। সে গাধার একটা  পা ভেঙে দিল। রাজা তাই দেখে লোকটিকে বললেন–  কী হে, অবলা জীবটাকে এভাবে পিটাচ্ছ কেন? গাধার ঠ্যাং ভেঙে তুমি নিজেরশক্তি পরীক্ষা কর? লোকটি উত্তেজিতভাবে জবাব দিল: আমার কাজ ভালো কি মন্দ, আমিই সেটা খুব ভালোভাবেজানি। গায়েপড়ে তোমার কথা বলার কোন ...

রহিমুদ্দীর ভাইর বেটা

গল্প সংগৃহীত ঃ বাঙ্গালীর হাসির গল্প লেখক ঃ জসীম উদ্দীন রহিমুদ্দীর ভাইর বেটা. **চাচা আর ভাজতে সন্ধ্যাবেলায় দুইজনে আলাপ-সালাপ করিতেছে। ভাজতে : চাচা ! আজ বাজারে গিয়াছিলাম। চাচা : যাবি  না! তবে বাড়িতে বসিয়া থাকবি নাকি? ভাজতে : একটা কুমড়া লইয়া গিয়াছিলাম। চাচা : নিবি  না? খালি হাতে বাজারে যাবি নাকি? ভাজতে : একটা লোক আসিয়া কুমড়াটার দাম জিজ্ঞাসা করিল। চাচা : দাম জিজ্ঞাসা করিবে না তবে কি বিনা পয়সায় কুমড়াটা লইবে? ভাজতে : আমি আট আনা চাহিলাম। চাচা : আট আনা চাবি না তবে কি মাঙনা দিবি অত বড় কুমড়াটা? ভাজতে : সে লোকটা দুই আনা বলিল। চাচা:বলিবে না? অতটুকু কুমড়া তুমি আট আনা চাহিলেই সে নিবে কেন? ভাজতে : আমি বলিলাম বাপের পুষ্যি কুমড়া খাইছ কোনোদিন? চাচা : বেশ বলিয়াছিস্।এত বড় কুমড়াটা বেটা দুই আনা মাত্র দর করিল! ভাজতে : এমন সময় এক পুলিশ আসিল। চাচা : আসিবে না? তুমি ভদ্রলোকের ছেলেকে বলিয়াছ,বাপের পুষ্যি কোনোদিন কুমড়া খাইয়াছ? দেখ না কি হয়! ভাজতে : পুলিশ আসিয়া কুমড়াটার দাম জিজ্ঞাসা করিল। চাচা : দাম জিজ্ঞাসা করিবে না?পুলিশ বলিয়া কুমড়াটা মাঙনা লইবে না কি? ...