পোস্টগুলি

হাসির গল্প লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

আশ্চর্য কৌশল

বাদশা সব মন্ত্রীকে বাদ দিয়ে বীরবলকেই বেশি ভালবাসতেন। মন্ত্রীরা অনেকেই বীরবলের প্রতি ঈর্ষান্তিব, বাদশা এ কথা জানতেন। বীরবলকে অপদস্থ করার অনেক চেষ্টা করেও তাঁরা তা পারতেন না, এসব জেনেও বাদশা চুপ করে থাকতেন। একদিন হঠাৎ বীরবলের অনুপস্থিতিতে একদল মন্ত্রী এসে বাদশাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে বললেন ‘হুজুর আমরা এমন কী অপরাধ করেছি যে জাঁহাপনা, আপনার সেবা করবার কোনও সুযোগ পাই না। যা কিছু জ্ঞানবুদ্ধির কাজ, বিচারের কাজ, সেবার কাজ, সবই আপনি বীরবলকে দেন। দয়া করে আমাদের ওপরেও কিছু ভাল কাজের দায়িত্ব দিন। দেখুন না বীরবলের চেয়ে আমরা ভাল পারি কি না? বাদশা বললেন, ‘তোমাদের কথাটা নেহাত মিথ্যে নয়। সত্যিই বীরবলকে যত বিশ্বাস করি বা ভালবাসি, তোমাদেরকে তা করি না। কারণ বীরবলের অসাধারণ গুণ, সততা, ধৈর্যবিচক্ষণতা ও সাধুতা যেন আমাকেও দিন দিন ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তাকে একদণ্ডও না হলে আমার একদম চলে না, এটা তোমরা মিথ্যা বলোনি। কাজ অবশ্য তোমাদের আমি দিই না আজকাল, কারণ জানি তোমরা বীরবলের মতো পারবে না বলে। বীরবলকে হিংসা কোরো না, সে কিন্তু সত্যিই ভাল।’ ‘ মন্ত্রীরা সব একসঙ্গে মিলে ডুকরে কেঁদে উঠলেন। বললেন, ‘হুজুর, কী আমাদের অপরাধ?...

কেউ ছোট নয়

সম্রাট একদিন বেশ হাসিখুশি মুখে ছিলেন। সেই সুযোগে বীরবল বললেন, সম্রাট, আপনার কাছে একটি ভিক্ষে চাই?’ সম্রাট বললেন, ‘বেশ তো, বলো? ‘ যদি আমি কোনওদিন দোষ করি, আমার মনোনীত জুরিরা যেন আমার বিচার করেন। বাদশা বললেন, ‘বেশ ভাল কথা। তাই হবে।’ বেশ কিছুদিন পরে ইচ্ছা করেই বীরবল একটি ঘোরতর অন্যায় কার্য করে বসলেন। সম্রাট স্থির করলেন বীরবলকে শাস্তি দিতেই হবে। এমন উপায় নেই। বীরবল বেশ বুঝতে পারলেন, যদি ঠিকমতো শাস্তি হয় তবে অন্তত দশ-বিশ হাজার টাকা তার অর্থদণ্ড হতে বাধ্য। কিন্তু সেই সময় সম্রাটকে তিনি পূর্বপ্রতিজ্ঞা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বললেন, ‘হুজুর, আমার জুরিদের আমিই স্থির করব বলে যে ভিক্ষা চেয়েছিলাম, এবং আপনি ভিক্ষা দেবেন বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন, অতএব আপনার কথা যদি এখন রাখেন তবে আমার পক্ষে ভাল হয়। সম্রাট বললেন, ‘তাই হোক, পাঁচজন বিচারক স্থির করে দাও, তাদের বিচার যাই হোক না কেন তোমাকে কথা দিলাম, আমি মেনে নেব।’ ‘তাহলে গ্রাম থেকে পাঁচজন দরিদ্র লোককে আনতে বলুন, তারা এসে আমার বিচার করুক। তারা যা বিচার করে দেবে তা আমি মাথা পেতে নেব।” ‘মানে? সম্ভ্রান্ত বিচারক তুমি চাও না? ‘হুজুর। দরিদ্ররাও তো মানুষ, সম্ভ...

একগুয়ে শিশু

             একগুঁয়ে শিশু একদিন রাজসভায় বীরবল ঠিক সময়ে এসে পৌছতে পারেননি। সেদিনের রাজসভায় জরুরি পরামর্শ ছিল। বীরবল ছাড়া সেই পরামর্শ আর কারও পক্ষে সমাধান করার সাধ্য ছিল না। সেজন্য এখনই বীরবলকে দরকার ছিল বাদশার। তিনি দূত পাঠালেন। দূত এসে দাঁড়াল বীরবলের দরজায়। বীরবল বললেন, ‘বলো গে যাচ্ছি।’ এদিকে ৩০ মিনিট অপেক্ষার পর বাদশা আবার দূত পাঠালেন। পুনরায় সেই দূত ফিরে এল বীরবলের কাছ থেকে একই উত্তর নিয়ে। আবার ৩০ মিনিট অপেক্ষা। তৃতীয়বার তার লোক গেল, এবং ফিরে এল ওই একই উত্তর নিয়ে। আবার লোক গেল, সেই একই উত্তর। এবার বাদশা ক্রুদ্ধ হলেন। আধঘণ্টা পরে এবারও যখন বীরবল এসে পৌছলেন না, তিনি হুকুম করলেন,“ফৌজ গিয়ে বীরবলকে ধরে আনুক, দরকার হলে বেঁধে আনুক, ওর কোনও ওজর আপত্তি না শুনে।’ ফৌজ গিয়ে দাঁড়াল বীরবলের দরজায়। এবার না গেলে সর্বনাশ! বীরবল তাড়াতাড়ি পোশাক-পরিচ্ছদ চড়িয়ে সোজা বাদশার কাছে এসে হাজির। লম্বা সেলাম ঠুকে দাঁড়ালেন, কিন্তু তিনি আজ আর তার সেলাম গ্রহণ করলেন না। ধমক দিলেন,‘বারবার আমার লোককে ফিরিয়ে দিলে কেন? তোমার এই ধরনের দেরি করা বা আমাকে অপমান করার ...